Table of Contents
হৃতিক রোশন বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় এবং প্রতিভাবান অভিনেতা, যিনি তাঁর অভিনয় দক্ষতা, অসাধারণ নাচ এবং চমকপ্রদ ফিজিকের জন্য সুপরিচিত। তাঁর ক্যারিয়ারের শুরু থেকে একাধিক ব্লকবাস্টার সিনেমা উপহার দিলেও কিছু ছবি আশানুরূপ সাফল্য পায়নি। তবুও তিনি কখনো হাল ছেড়ে দেননি এবং নিজের শক্তিশালী অভিনয় দক্ষতার মাধ্যমে বলিউডে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেছেন।
সফল ও ব্যর্থ সিনেমার তালিকা
হৃতিক রোশন ক্যারিয়ারের শুরুতেই ‘কহো না… পেয়ার হ্যায়’ (২০০০) সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে ধুমধাম করে আত্মপ্রকাশ করেন। এরপর একের পর এক সুপারহিট সিনেমা উপহার দেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
সফল সিনেমা:
- কহো না… পেয়ার হ্যায় (২০০০)
- কাভি খুশি কাভি গম (২০০১)
- কোই মিল গয়া (২০০৩)
- ধুম ২ (২০০৬)
- জিন্দেগি না মিলেগি দোবারা (২০১১)
- কৃষ সিরিজ (২০০৬, ২০১৩)
- সুপার ৩০ (২০১৯)
- ওয়ার (২০১৯)
ব্যর্থ সিনেমা:
তবে সব সময় ভাগ্য সহায় থাকেনি। কিছু সিনেমা আশানুরূপ সাফল্য পায়নি, যেমন—
- না তুম জানো না হাম (২০০২)
- কাইটস (২০১০)
- মহেঞ্জোদারো (২০১৬)
- কাবিল (২০১৭)
- আরো অনেক সিনেমা
যদিও এসব সিনেমার বক্স অফিস সংগ্রহ হতাশাজনক ছিল, তবুও সমালোচকরা হৃতিকের অভিনয়ের প্রশংসা করেছেন।
সহকারী পরিচালক হিসেবে অভিজ্ঞতা

অনেকেই জানেন না যে অভিনয়ে আসার আগে হৃতিক দীর্ঘ সময় সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁর বাবা রাকেশ রোশন পরিচালিত বেশ কিছু সিনেমার শুটিং সেটে তিনি সহকারী পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। শুধু পরিচালনাই নয়, সেটের সাধারণ কাজ যেমন ঝাড়ু দেওয়া, ক্যামেরা সেটআপ করা, স্ক্রিপ্ট সংশোধন করা—এসব কাজও করতেন তিনি। এতে তাঁর চলচ্চিত্র জগত সম্পর্কে গভীর ধারণা তৈরি হয়।
দাতব্য কাজ ও সামাজিক দায়িত্ব
হৃতিক রোশন কেবল একজন অভিনেতাই নন, তিনি একজন সমাজসেবকও। তিনি বিভিন্ন সামাজিক কাজের সঙ্গে যুক্ত আছেন, বিশেষত স্বাস্থ্য ও শিক্ষামূলক কার্যক্রমে। তাঁর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হলো র*ক্তদান কর্মসূচি।
একবার তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান যে, তাঁর রক্তের গ্রুপ বি-নেগেটিভ, যা খুবই বিরল। তাই তিনি নিয়মিত রক্তদান করেন এবং অন্যদেরও উৎসাহিত করেন। এ ছাড়া শারীরিক প্রতিবন্ধীদের সাহায্যের জন্য তিনি বেশ কয়েকটি চ্যারিটি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত।
স্বাস্থ্য সচেতনতা ও ব্যক্তিগত সংগ্রাম
হৃতিক রোশন সব সময় স্বাস্থ্য সচেতন ছিলেন, কিন্তু তাঁর জীবনে বড় ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যাও এসেছে। ২০১৩ সালে তিনি মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বাঁধার কারণে বড় ধরনের অস্ত্রোপচার করান। ডাক্তাররা জানিয়েছিলেন যে, এই অস্ত্রোপচা*র ঝুঁকিপূর্ণ এবং এতে প্রাণনাশের সম্ভাবনাও ছিল। কিন্তু হৃতিক সাহসিকতার সঙ্গে এই চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করেন এবং সফলভাবে সুস্থ হয়ে ওঠেন।
তাঁর আরেকটি বড় সাফল্য হলো ধূমপান ছেড়ে দেওয়া। অ্যালেন কারের ‘ইজি ওয়ে টু স্টপ স্মোকিং’ বই পড়ে তিনি সফলভাবে ধূমপান ত্যাগ করেন।
নতুন প্রকল্প ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
২০১৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ওয়ার সিনেমায় হৃতিক রোশন ভারতীয় সেনাসদস্য কবিরের চরিত্রে অভিনয় করেন। টাইগার শ্রফের সঙ্গে তাঁর যুগলবন্দী দর্শকদের মুগ্ধ করে। প্রায় ছয় বছর পর এই সিনেমার দ্বিতীয় কিস্তি আসতে চলেছে, যা নিয়ে ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা রয়েছে।
এ ছাড়া, হৃতিক বর্তমানে ফাইটার এবং কৃষ ৪ সিনেমার কাজ নিয়ে ব্যস্ত। বিশেষত কৃষ ৪ তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম প্রতীক্ষিত সিনেমা।
পারিবারিক পটভূমি ও ব্যক্তিগত জীবন
হৃতিক রোশনের জন্ম ১৯৭৪ সালের ১০ জানুয়ারি। তাঁর বাবা প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা রাকেশ রোশন এবং মা পিঙ্কি রোশন। তাঁর চাচা রাজেশ রোশন একজন জনপ্রিয় সংগীত পরিচালক এবং নানা জেওম প্রকাশও ছিলেন বলিউডের নামকরা প্রযোজক ও পরিচালক। তাঁর পরিবারে চলচ্চিত্রের প্রতি এক ধরনের উত্তরাধিকার সূত্রে আগ্রহ তৈরি হয়।
ব্যক্তিগত জীবনে হৃতিক রোশন ২০০০ সালে সুজান খানকে বিয়ে করেন এবং তাঁদের দুই সন্তান রয়েছে—রেহান ও হৃদান। তবে ২০১৪ সালে তাঁরা বিচ্ছেদে যান। যদিও আলাদা হয়ে গেলেও তাঁরা এখনও সন্তানের অভিভাবকত্ব ভাগাভাগি করেন এবং সুসম্পর্ক বজায় রেখেছেন।
হৃতিক রোশন শুধুমাত্র একজন অভিনেতা নন, বরং বলিউডে সফলতার প্রতীক। তাঁর ক্যারিয়ারে যেমন একাধিক সুপারহিট সিনেমা রয়েছে, তেমনি কিছু ব্যর্থতাও রয়েছে। তবে ব্যর্থতা তাঁকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। কঠোর পরিশ্রম, অভিনয় দক্ষতা এবং সামাজিক কাজের মাধ্যমে তিনি নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তাঁর আগামীর পথচলা আরও উজ্জ্বল হবে, এটাই ভক্তদের প্রত্যাশা।
NG Videos news এর সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।