নারী চিকিৎসককে কুপ্রস্তাব! বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের সেই তত্ত্বাবধায়ক অবশেষে বরখাস্ত!

ছবিঃ সংগৃহীত

একজন চিকিৎসকের কাজ হলো মানুষের জীবন বাঁচানো, সেবা দেওয়া। কিন্তু সেই চিকিৎসালয় বা হাসপাতালের অভিভাবক যখন নিজেই কুৎসিত মানসিকতার পরিচয় দেন, তখন বিশ্বাসটাই নড়ে যায়! বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. রেজওয়ানুর আলমের বিরুদ্ধে ঠিক এমন এক ন্যাক্কারজনক ও লজ্জাজনক অভিযোগই প্রমাণিত হয়েছে। এক নারী চিকিৎসককে দফায় দফায় অনৈতিক প্রস্তাব ও অশালীন ইঙ্গিত দেওয়ার অভিযোগে শেষ পর্যন্ত তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

ঠিক কী ঘটেছিল পর্দার আড়ালে? গত জুন মাসে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নতুন যোগদান করেন এক নারী চিকিৎসক। এরপর থেকেই শুরু হয় সেই দুঃস্বপ্ন। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রেজওয়ানুর আলম নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে সুযোগ পেলেই ওই চিকিৎসককে কোনো কারণ ছাড়াই নিজের কক্ষে ডেকে পাঠাতেন। শুধু তাই নয়, তাকে নানাভাবে অনৈতিক প্রস্তাব ও অশালীন ইঙ্গিত দিয়ে আসছিলেন তিনি।

একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার এমন বিকৃত আচরণে মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও ওই নারী চিকিৎসক চুপ থাকেননি; বরং সাহসিকতার সাথে তিনি বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আনেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর স্বাক্ষর করা প্রজ্ঞাপনে এই অপকর্মের সত্যতা মিলেছে। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮–এর ৩৯(১) ধারা অনুযায়ী, তদন্তের কাজে যেন অভিযুক্ত কর্মকর্তা কোনো প্রভাব বিস্তার করতে না পারেন, সেজন্য তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী ওই নারী চিকিৎসক সংবাদমাধ্যমকে অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে বলেছেন, “এটি সমাজের জন্য একটি বড় বার্তা। আমরা আমাদের আচরণ যেন আরও সচেতনভাবে করি। কর্মকর্তা যেই হোক না কেন, সবারই নিজের সীমানা জানা উচিত। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।”

অন্যদিকে, এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে সাংবাদিকরা ডা. রেজওয়ানুর আলমের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি চতুরতার সাথে এড়িয়ে গিয়ে জানান যে, এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না।

ক্ষমতার অপব্যবহার করে নারীদের কর্মক্ষেত্রে এমন হয়রানি বন্ধ হওয়া দরকার। এই ঘটনা যেন অন্য লম্পটদের জন্যও একটি কড়া বার্তা হয়ে থাকে। আপনার কী মনে হয়, এমন অপরাধীদের কি কেবল সাময়িক বরখাস্তই যথেষ্ট, নাকি সরাসরি চাকরিচ্যুত করা উচিত?

11 Views