স্বপ্ন যদি আকাশ ছোঁয়ার হয়, তবে কোনো সীমাবদ্ধতাই যে আটকে রাখতে পারে না, তা আরও একবার প্রমাণ করলেন সন্দ্বীপের মেয়ে তাহিয়া তাবাসসুম। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে এবার তিনি ইন্টার্নশিপের সুযোগ পেয়েছেন জাপানের স্বনামধন্য ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ফিজিওলজিক্যাল সায়েন্স’-এ! 🇯🇵
সাউথ সন্দ্বীপ বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করা তাহিয়ার ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল বড় মাপের গবেষক হওয়ার। চাচা মিজানুর রহমানের অনুপ্রেরণায় সেই স্বপ্ন ডালপালা মেলে। এরপর ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট গার্লস পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে তিনি ভর্তি হন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগে। 🧬
বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রেখেই তিনি স্বপ্ন পূরণের কাজ শুরু করেন। কিন্তু সেখানে গিয়েই বুঝতে পারেন দেশের গবেষণাবস্থার রূঢ় বাস্তবতা। ল্যাবে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নেই, প্রয়োজনীয় কেমিক্যালের অভাব! কিন্তু দমে যাওয়ার পাত্রী নন তাহিয়া। দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার সময় এক সিনিয়র ভাইয়ের জাপানে যাওয়ার গল্প তাকে নতুন পথ দেখায়। তিনি ঠিক করেন, স্নাতক শেষ করার আগেই দেশের বাইরের কোনো উন্নত গবেষণাগারে কাজের সুযোগ বের করবেন।
শুধু স্বপ্ন দেখেই বসে থাকেননি তিনি। একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি (যেখানে তৃতীয় বর্ষ পর্যন্ত তার সিজিপিএ ঈর্ষণীয় ৩.৮৩!) নিজেকে যুক্ত করেন নানা সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমে। বাংলাদেশ বায়োলজি অলিম্পিয়াড থেকে শুরু করে ‘নেটওয়ার্ক অব ইয়াং বায়োটেকনোলজিস্টস’-এর মতো সংগঠনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। দেশে-বিদেশে নানা কনফারেন্সে অংশ নিয়ে নিজের দক্ষতা প্রতিনিয়ত ঝালাই করেছেন। 🔬
অবশেষে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ! চলতি বছরের মার্চে জাপানের ল্যাব থেকে আসে সেই বহু কাঙ্ক্ষিত ই-মেইল। বিশ্বাস করতে কষ্ট হলেও এটাই সত্যি যে, পুরো দক্ষিণ এশিয়া থেকে বছরে মাত্র ২-৩ জন এই ইন্টার্নশিপের সুযোগ পান, আর সেই মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় জায়গা করে নিলেন আমাদের তাহিয়া!
সব ঠিক থাকলে আগামী নভেম্বরে তিনি জাপানে পাড়ি জমাবেন। সেখানে তিনি মলিকুলার নিউরোইমিউনোলজি ল্যাবে কাজ করবেন, যেখানে আলঝেইমার বা স্মৃতিভ্রমের মতো ভয়াবহ ও জটিল স্নায়বিক রোগগুলোর নিরাময় নিয়ে গবেষণা চলবে। 🧠
তাহিয়ার এই অনন্য সাফল্য আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়— সঠিক দিকনির্দেশনা আর অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়। তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশ্যে তার সহজ বার্তা— “সুযোগ অনেক আছে, কিন্তু বসে থাকলে চলবে না। সুযোগ নিজেকেই খুঁজে নিতে হবে।”





