টাকা ফুরালেই কি মানুষের কদর শেষ হয়ে যায়? প্রবাসীদের জীবনের এমন নির্মম পরিণতি দেখলে চোখের পানি ধরে রাখা কঠিন!
যেই স্ত্রী আর সন্তানদের মুখে হাসি ফোটাবেন বলে জীবনের সোনালী ১২টি বছর সৌদি আরবের তপ্ত রোদে মাথার ঘাম পায়ে ফেলেছেন, নিজের সব উপার্জন নির্দ্বিধায় তুলে দিয়েছেন স্ত্রীর হাতে— আজ সেই স্ত্রী-সন্তানরাই তাকে রাতের অন্ধকারে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে গেছে! হৃদয় বিদারক এই ঘটনাটি ঘটেছে টাঙ্গাইলের সখীপুরে।
এই হতভাগ্য রেমিট্যান্স যোদ্ধার নাম জামাল উদ্দিন (৪৯)। দীর্ঘ ২৫ বছর আগে নিজের গ্রাম ছেড়ে গাজীপুরে শ্বশুরবাড়িতেই স্থায়ী হয়েছিলেন তিনি। ভেবেছিলেন সেটাই তার সবচেয়ে আপন ঘর। কিন্তু আট মাস আগে যখন কিডনির জটিলতাসহ নানা রোগ নিয়ে দেশে ফিরলেন, তখন থেকেই শুরু হয় পরিবারের চরম অবহেলা।
শনিবার গভীর রাতে, যখন আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামার কথা, ঠিক তখনই অসুস্থ ও বাকরুদ্ধ এই মানুষটিকে সখীপুরের কালমেঘা এলাকায় তার পৈতৃক ভিটার কাছের একটি রাস্তায় ফেলে রেখে যায় তার স্ত্রী ও সন্তানেরা। রোববার সকালে স্থানীয়রা তাকে রাস্তার পাশে মানবেতর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। বর্তমানে তিনি তার এক ভাতিজির আশ্রয়ে আছেন।
জামাল ভাইয়ের বড় ভাই বুকফাটা আর্তনাদ করে বলেন, “ভাইকে আগেই বলেছিলাম শ্বশুরবাড়িতে না থাকতে, সে কারও কথা শোনেনি। আজ তার এই পরিণতি! পৃথিবীতে এর চেয়ে কষ্টের আর কী হতে পারে?”
এদিকে অভিযুক্ত স্ত্রী রিনা আক্তারের কাছে জানতে চাইলে তিনি খুব সহজেই বলে দেন— তিনি নাকি কয়েকমাস আগেই জামালকে ডিভোর্স দিয়েছেন, আর রাতের বেলা জামাল কীভাবে ওখানে পৌঁছালো তা তিনি কিছুই জানেন না!
উপজেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে বিষয়টি নজরে নিয়েছে। কিন্তু আমাদের সমাজের কাছে একটা বড় প্রশ্ন থেকেই যায়— মানবতা আজ কোথায় এসে দাঁড়িয়েছে? ১২ বছর যে মানুষটা পরিবারের জন্য নিজেকে শেষ করে দিল, জীবনের শেষ বেলায় তার পুরস্কার কি এই অবহেলা আর অন্ধকার রাস্তা?
আসুন, এই নির্মম ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং জামাল ভাইয়ের সুচিকিৎসার জন্য সবাই আওয়াজ তুলি। প্রবাসীদের প্রতি এই অবিচার মেনে নেওয়া যায় না।





