দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক বিশাল ও নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে গেল! নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। আজ বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ধারণা করা হচ্ছে, এই সংবাদ সম্মেলনেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ ও পরবর্তী সাংবিধানিক কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
হঠাৎ কেন এই পদত্যাগ? ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল পাঁচ বছরের জন্য দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। সে হিসেবে তার মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। তবে ২০২৪ সালের জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই তার পদে থাকা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা বিতর্ক ও আলোচনা চলছিল। সাম্প্রতিক সময়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তার ভবিষ্যৎ নিয়ে গুঞ্জন আরও জোরালো হয়। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত মেয়াদের প্রায় পৌনে দুই বছর আগেই পদ ছাড়লেন তিনি। গতকালই বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে তিনি নিজের বিদায়ের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছিল।
সংবিধান অনুযায়ী এখন কী হবে? সংবিধানের ৫০ (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি যেকোনো সময় স্পিকারের বরাবর স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন। এছাড়া ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার সেই দায়িত্ব পালন করবেন।
সংবিধানের নিয়ম মেনে আজ দুপুরে থাইল্যান্ডের ব্যাংকক থেকে চিকিৎসা শেষে নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই ঢাকায় ফিরেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বিমানবন্দরে এসেই তিনি গণমাধ্যমকে জানান, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে তা স্পিকারের কাছেই জমা দিতে হবে এবং নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।
পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন? সংবিধানের ৪৮ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটেই দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। যেহেতু বর্তমান সংসদে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে, তাই দলটির পক্ষ থেকে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তারই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। ইতোমধ্যে বিএনপির শীর্ষপর্যায়ে এই বিষয়ে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে।





